
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণপিয়াসীরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করছেন জাফলংয়ে। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি আর পাথর সংগ্রহের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে জাফলং জিরো পয়েন্টের কাছের ‘মায়াবী ঝরনা’ এবং চা বাগানের সজীবতা বাড়তি আনন্দ যোগ করছে ভ্রমণপিপাসুদের মনে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ বন্ধের সুযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা জাফলংয়ের পাশাপাশি গোয়াইনঘাটের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র যেমন—বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাইয়েও ভিড় জমিয়েছেন। এতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার সব কটি পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, "ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট গাইড ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যটন পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।"
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ছুটি উপভোগ করতে পারেন।"
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন পর জাফলংয়ে এত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটায় তারা বেশ খুশি। হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও পর্যটকদের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী কয়েক দিন পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।